নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজশাহীর পুঠিয়ায় অভিযান চালিয়ে ৭টি জিহাদী বইসহ আনসার আল ইসলামের চার সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড এ্যাকশান ব্যাটালিয়ান র্যাব-৫।
গ্রেফতারকৃতরা হলো, হায়াতুল্লাহ রুবেল @ মাসুদ আঃ রহিম মিজানুর রহমান @ মেজা, মুকুল হোসেন (৩২)। এদের কাছ থেকে ৭টি জিহাদী বই উদ্ধার করা হয়।
গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভরুয়াপাড়ায় অভিযান চালিয়ে তাতের আটক করা হয়।
র্যাব জানায়, রাজশাহী জেলায় পুঠিয়া থানায় জঙ্গী তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে র্যাব জানতে পারে যে, সেখানে আনসার আল ইসলাম নামক একটি জঙ্গী সংগঠন অনেক আগে থেকেই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ২০০৪-২০০৫ সালের দিকে পুঠিয়া থানার অর্ন্তগত ভড়–য়া পাড়া, মাহেন্দ্রা, জামিরা গ্রামে মোঃ আবুল কালাম আজাদ @ আজুমুন্সি (বর্তমানে মৃত) নামক এক ব্যক্তির মাধ্যমে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (পরবর্তীতে আনসার আল ইসলাম নামে পরিচিত) সংগঠনের কার্যকলাপ শুরু হয়। সেই সময় ভড়–য়া পাড়ার আজুমুন্সি ও মাহেন্দ্রার ইব্রাহিম নামক আর এক ব্যক্তি তাদের সংগঠনের কার্যকলাপ চালিয়ে যেতে থাকে। প্রথমে তারা ভড়–য়াপাড়া গ্রামের কিছু লোক কে কোরআন শিক্ষা দেওয়ার নামে ক্লাস করাত এবং এর পাশাপাশি আহলে হাদিস @ জাগ্রত মুসলিম এর নামে ইসলাম বিরোধী কিছু উগ্রবাদী মন্তব্য ও বাণী শিক্ষা দিত এবং তা পর্যায়ক্রমে তাদের কে মুখস্ত ও করাত। এভাবে আজুমুন্সি ও ইব্রাহিম ইসলামের মূলধারার ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে মুসলমানদের ধর্ম ভীরুতা কে কাজে লাগিয়ে সংগঠনের সদস্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যেতে থাকে। তারা মোঃ জসিম উদ্দিন রহমানি ও মোঃ রাজ্জাক বিন ইউসুফ এর ওয়াজ শুনাত এবং তাদেরকে তা পালন করতে বলতো। এমতাবস্থায় তাদের দুইজনের কথা শুনে ভড়–য়াপাড়া ও তার পাশর্^বর্তী এলাকার বুলবুল, মুকুল, শাহীন, আব্দুর রহীম, লোকমান, মুনসুর, মিরাজ, আবু জাফর, ওহাব, মোশারফ, বাবরমুন্সি, জাকির হোসেন টুটুল, মোজাম্মেল, মোস্তফা ও আনিসুর প্রমুখগণ এই দলে যোগদান করে।
২০০৫ সালের ১৭ ই আগষ্ট সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলা হলে, বোমা হামলা সর্ম্পকিত কথা বার্তায় ও তাদের তৎ পরবর্তী কার্যকলাপে ভড়–য়াপাড়া গ্রামের লোকজন আজুমুন্সি ও তার দলের জঙ্গী সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ততা আছে বলে বুঝতে পারে। কিন্তু কেউ প্রতিবাদ করলে সংগঠনের লোকজন তাদেরকে দমিয়ে রাখে। এভাবে কিছুদিন চলার পর ভড়–য়াপাড়া গ্রামের আরো কিছু উগ্রবাদী সদস্য যেমন শহিদুল, মিজানুর রহমান মেজা, সাদ্দাম, উজ্জল, রাকীব, মামুন ও হায়াতুল্লাহ এই সংগঠনের সাথে নতুনভাবে যুক্ত হয়।
২০০৫ সালে ১৮ জুলাই তাদের সংগঠনের কিছু সদস্য (যেমন মিরাজুল ইসলাম, জাকির হোসেন টুটুল, মোজাম্মেল হোসেন, ইব্রাহিম, মোস্তফা, এনামুলহক, মুনসুর, ওয়ালিউল্লাহ, জহুরুল, আবুজাফর, বিপ্লব) মাহেন্দ্রার একটি বাড়িতে গোপন বৈঠক করার সময় প্রশাসনের কাছে ধরা পড়ে এবং তারা জঙ্গী হিসেবে বিভিন্ন মেয়াদে বর্তমানে জেলহাজতে অবস্থান করছে। পরবর্তীতে কিছু সদস্য জামিনেও বের হয়। ইতি মধ্যে আজুমুন্সি সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হয় এবং পরবর্তীতে অসুস্থতা জনিত কারণে সে মারা যায়। এরপর ভড়–য়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বাবর মুন্সি তার স্থলাভিষিক্ত হয়ে তার সংগঠনের কার্যকলাপ গোপনে চালিয়ে যেতে থাকে।
উদ্ধারকৃত জিহাদী বই ও টাকা
২০১৬ সালের ৫ই নভেম্বর এই সংগঠনের সক্রিয় সদস্য বুলবুল ভড়–য়াপাড়ার পাশর্^বর্তী গ্রাম ধাদাসে তার শুশ^র বাড়ীতে বোমা বানানোর সময় তা বিস্ফোরিত হলে উক্ত ঘটনায় বুলবুল ও তার সহযোগী উজ্জ্বলের হাত ঝলসে যায়। এই ঘটনার পর থেকে বুলবুল ও উজ্জ্বল অনেকদিন পালিয়ে থাকে। কিছুদিন পর উজ্জ্বল বাড়ীতে ফিরে আসলেও বুলবুল অদ্যাবধি পলাতক। উক্ত ঘটনার পর থেকে ড়–য়াপাড়া গ্রামের লোকজন বাবর মুন্সিকে জঙ্গী দলের সাথে সম্পৃক্ততার ব্যাপারে দোষারোপ করতে থাকে। কিন্তু তখনও বাবর মুন্সি গ্রামের লোকজনের মন্তব্যকে উপেক্ষা করে লোক চক্ষুর আড়ালে ও প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে তাদের কার্যকলাপ চালিয়ে যেতে থাকে।
২০১৭ সালের ৬ অক্টোবর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভড়–য়াপাড়া গ্রামের বাবর মুন্সি ও তার দলের নাশকতামুলক কর্মকান্ডের প্রস্তুতির সংবাদ পেয়ে র্যাব আনসার আল ইসলামের বাবর মুন্সিসহ আরো চারজনকে (মোঃ আনিছুর রহমান, মোঃ শহিদুল ইসলাম, মোঃ নজরুল ইসলাম, মোঃ শাহিন মিয়া) ২৪টি জিহাদী বইসহ গ্রেফতার করে এবং তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, ভড়–য়াপাড়া, মাহেন্দ্রা, জামিরা ও চারঘাট থানাসহ পাশর্^বর্তী আরো কিছু এলাকায় তাদের আরো সদস্য রয়েছে যারা তাদের অবর্তমানে সংগঠনের কার্যক্রম অব্যহত রেখেছে।
এরপর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, রাজশাহী জেলার পুঠিয়া থানাধীন বগারটেক ক্ষুদ্র জামিরা গ্রামস্থ জনৈক মোঃ বোরজাহানের কলাবাগানে নাশকতা সৃষ্টির জন্য জমায়েত হবে। বিষয়টি জানার পরেই তাদের আটক করা হয়।
খবর২৪ঘণ্টা/এমকে