
নিজস্ব প্রতিবেদক: বগুড়া সদরে মাদকবিরোধী টাস্কফোর্সের বিশেষ অভিযানে গাঁজা ও টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ ৮ জনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), বগুড়ার ‘ক’ সার্কেলের একটি আভিযানিক দল বগুড়া সদর উপজেলার বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদের সামনে সুইপার কলোনি, চকসূত্রাপুর হাড্ডিপট্টি ও চকসূত্রাপুর চামড়াগুদাম এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বগুড়া সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আজাদ হোসেন।
অভিযানকালে ১০০ গ্রাম গাঁজা ও ১৭টি টাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আটজনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন— সেউজগাড়ী রেলকলোনির মৃত গয়া বাঁশফোড়ের ছেলে শ্রী মঙ্গল হরিজন (৩৫), শিবগঞ্জ উপজেলার ভাসুবিহার এলাকার মো. বজলুর রশিদের ছেলে মো. নাদিরুজ্জামান বাঁধন (২২), সোনাতলার চর মধুপুর এলাকার ঠান্ডু ব্যাপারীর ছেলে মো. নাজমুল ব্যাপারী (২৬), দুপচাঁচিয়ার কলিপাড়া এলাকার মো. ফারুক রহমানের ছেলে মো. জিহাদ (২৪), বগুড়া সদরের মালগ্রাম এলাকার মো. জসিমের ছেলে মো. আলমগীর (৪০), দুপচাঁচিয়ার রসুলপুর এলাকার মো. হোসেন আলীর ছেলে মো. রুহেল (২৫), শাজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া বাজার এলাকার শ্রী দুলালের ছেলে শ্রী দুর্জয় (২৪) এবং জয়পুরপাড়া এলাকার মো. বশির উদ্দিনের ছেলে মো. নিয়াতুল ইসলাম নওসাত (৩৬)।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়ে শ্রী মঙ্গল হরিজন, মো. জিহাদ ও মো. আলমগীরকে ৬ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া মো. নাদিরুজ্জামান বাঁধন, মো. নাজমুল ব্যাপারী, মো. রুহেল, শ্রী দুর্জয় ও মো. নিয়াতুল ইসলাম নওসাতকে ৩ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
অভিযান শেষে উদ্ধারকৃত গাঁজা ও টাপেন্টাডল ট্যাবলেট ঘটনাস্থলেই ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) বগুড়ার উপপরিচালক জিললুর রহমান বলেন, “মাদকের বিস্তার রোধে জেলা জুড়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। সরকারের মাদকবিরোধী নীতি বাস্তবায়নে ডিএনসি, পুলিশ ও প্রশাসনের সমন্বিত অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।”
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।