খবর২৪ঘণ্টা.কম, ডেস্ক: স্থান ও স্থাপনার ভাড়ার ভ্যাট পরিশোধ না করে গ্রামীণফোন সরকারের ৭ কোটি ২৫ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে। আর এই ফাঁকি দেওয়া ভ্যাট পরিশোধে প্রতিষ্ঠানটিকে চূড়ান্ত দাবিনামা পাঠিয়েছে বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ)।
সোমবার (২৯ জানুয়ারি) চূড়ান্ত দাবিনামা পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্র।
এনবিআর সূত্রে জানা যায়, গ্রামীণফোন কোম্পানি ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ মাসে স্থান ও স্থাপনা ভাড়া বাবদ সরকারের ৭ কোটি ২৫ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, স্থান ও স্থাপনা ভাড়া গ্রহণকারীর ওপর ৯ শতাংশ হারে মূসক (ভ্যাট) প্রযোজ্য। তবে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত অনধিক ১৫০ বর্গফুট আয়তনের কোনো স্থাপনা এর অন্তর্ভুক্ত নয়।
এর বাইরে ব্যবহৃত আয়তনের স্থাপনার ক্ষেত্রে ভ্যাট প্রযোজ্য। আর সেই ভ্যাট মালিকপক্ষকে ভাড়া দেওয়ার সময় কেটে রেখে দেবে কোম্পানি। কিন্তু গ্রামীণফোন মালিককে ভাড়া দিলেও ভ্যাটের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়নি। ফলে ফাঁকি দেওয়া অর্থ গ্রামীণফোনকেই পরিশোধ করতে হবে।
শুধু তাই নয়, মূসক আইন, ১৯৯১ এর ৩৭ ধারার উপধারা (৩) অনুযায়ী অপরিশোধিত মূসকে সুদের হার ২ শতাংশ। প্রাথমিক দাবিনামা জারির পর থেকে এই সুদ প্রযোজ্য।
এদিকে গ্রামীণফোন একের পর এক ভ্যাট ফাঁকি দিয়েই চলেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কঠোর অবস্থানে থাকার পরও থামছে না গ্রামীণফোনের ভ্যাট ফাঁকি। অন্যদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডও (এনবিআর) একাধারে প্রতিষ্ঠানটির ভ্যাট ফাঁকি উদঘাটন করে চলেছে।
এর আগে ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সময়ে সিম পরিবর্তনের নামে সরকারের ১ হাজার ২৩ কোটি ২৩ লাখ ৩১ হাজার টাকা, ২০১২ সালের জুলাই থেকে ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে সিম পরিবর্তনের নামে আরও ৩৭৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ভ্যাট ফাঁকি দেয়। ২০১১ সালের জুলাই থেকে ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত স্থান ও স্থাপনা ভাড়াবাবদ মূসক (ভ্যাট) ফাঁকি দিয়েছে ১৯ কোটি ৬ লাখ টাকা।
খবর২৪ঘণ্টা.কম/রখ