1. [email protected] : Abir k24 : Abir k24
  2. [email protected] : bulbul ob : bulbul ob
  3. [email protected] : Ea Shihab : Ea Shihab
  4. [email protected] : khobor : khobor 24
  5. [email protected] : অনলাইন ভার্সন : অনলাইন ভার্সন
  6. [email protected] : omor faruk : omor faruk
  7. [email protected] : R khan : R khan
অ্যাম্বুলেন্সে আড়াই ঘণ্টা ৫ হাসপাতাল ঘুরে মহিলার মৃত্যু - খবর ২৪ ঘণ্টা
শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন

অ্যাম্বুলেন্সে আড়াই ঘণ্টা ৫ হাসপাতাল ঘুরে মহিলার মৃত্যু

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২০

খবর২৪ঘন্টা নিউজ ডেস্ক: সিলেটে ৫ হাসপাতাল ঘুরেও চিকিৎসা নিতে পারলেন না শ্বাসকষ্টে মারা যাওয়া মহিলা। আড়াই ঘন্টাই ছিলেন এম্বুলেন্সে। শ্বাসকষ্টে বুক উঠা-নামা দেখে স্বজনরা ডাক্তারদের অনেক আকুতি-মিনতি করলেন। কিন্তু কেউ তাকে ভর্তি করলো না। শেষ রাতের দিকে যখন ওই বৃদ্ধাকে নিয়ে ওসমানী হাসপাতালে যাওয়া হলো ততক্ষনে তিনি আর বেচে নেই। বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন তিনি। ওই মহিলার স্বজন সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান রিপন। তিনিও রাতভর ছিলেন রোগীর সঙ্গে।
রাতের চিকিৎসা না পাওয়ার ঘটনা গতকাল তিনি জানিয়েছেন গণমাধ্যমের কাছে। সিলেটের মোগলটুলার বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম নামের ওই বৃদ্ধা মহিলা। স্বামী ও এক সন্তানকে বসবাস করেন ওই এলাকায়। অনেক দিন ধরেই এ্যজমা সমস্যায় ভুগছেন। করোনাকালীন সময়ে তিনি নিজ বাসাতেই ছিলেন। রোববার মধ্যরাতের দিকে হঠাৎ করে তার শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। সেই সঙ্গে বুকেও ব্যাথা। স্বামী ও সন্তান তাকে নিয়ে বেকায়দায় পড়েন। ডেকে আনেন এম্বুলেন্স। চিকিৎসকার জন্য প্রথমেই নিয়ে যান সিলেটের অত্যাধুনিক আল হারমাইন হাসপাতালে। সেখানে গিয়ে খোজ করেন আইসিইউ খালি আছে কী না। জরুরী বিভাগ থেকে জানানো হয় খালি আছে। রোগী দেখতে চাইলেন ডাক্তার। এম্বুলেন্সে গিয়ে রোগী দেখেই হাসপাতালের দায়িত্বরা জানালেন- ‘আইসিইউ খালি নেই।’ একটু তর্ক করলেন স্বজনরা। বললেন- ‘একটু আগে বললেন আইসিইউ আছে, এখন নেই। এটা কেমন কথা।’ রোগী অবস্থা দেখে এক পর্যায়ে তারা শরনাপন্ন হলেন পাশ্ববর্তী ওয়েসিস হাসপাতালে। সেখানে এম্বুলেন্সে এসেই ডাক্তার দেখে বললেন- ‘রোগী করোনা আক্রান্ত হতে পারেন। আপনারা নর্থইষ্টে নিয়ে যান। ওখানে করোনা কর্ণার রয়েছে।’ কীভাবে বুঝলেন করোনা হয়েছে এমন প্রশ্নে উত্তরে ওয়েসিসের কর্মকর্তারা জানান- ‘রোগীর উপসর্গ দেখে বুঝা যাচ্ছে।’ ওয়েসিসের কথা মতো রাত আড়াইটার দিকে নর্থইষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় রোগীকে। তারা রোগী দেখেই বলে দিলো- ‘অক্সিজেন নেই।’ এরপর সেখান থেকে রোগীকে নিয়ে আসা হয় মা ও শিশু হাসপাতালে। সেখানে অনুনয় করে একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার পাওয়া গেলো। সাপোর্ট দেওয়া হলো ওই বৃদ্ধাকে। এরপর তারা রোগী নিয়ে এলেন পার্কভিউ হাসপাতালে। সেখানে যাওয়ার পর রোগীর বুকের ব্যাথা বেড়ে যায়। পার্ক ভিউর কর্তব্যরত ডাক্তার দ্রুত রাগিব-রাবেয়া হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর ডাক্তার রোগীর বুকের এক্সরে করেন। এরপর জানিয়ে দেন- ‘রোগীর অবস্থা খারাপ। দ্রুত ওসমানীতে নিয়ে যান।’ স্বজনরা জানিয়েছেন- ভোররাতের দিকে ওসমানীর ফটক পর্যন্ত যাওয়ার পর রোগী নিস্তেজ হয়ে পড়েন। পরে জরুরী বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন। সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান রিপন জানিয়েছেন- ‘তিনিই রোগীর সঙ্গে রাতভর ৫টি হাসপাতালে ঘুরলেন। কিন্তু কেউই রোগী ভর্তি করতে চাইলো না। সবাই করোনা ভয়ে রোগীকে ছেড়ে দিলো। আবার আইসিইউ কিংবা অক্সিজেন নেই বলে তাড়িয়ে দিলো। এর চেয়ে দু:খের আর কী হতে পারে।’ তিনি বলেন- ‘একজন সাধারণ রোগাক্রান্ত মানুষকে এখন এসব হাসপাতালগুলো করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বলে প্রথমেই সন্দেহ প্রকাশ করে ভর্তি করতে অনীহা প্রকাশ করে। অথচ সরকারের নির্দেশ প্রত্যেক হাসপাতালে যেন সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু তারা এসব বিধি-বিধানের কোন তোয়াক্কা করছে না। তিনি মানবিক কারনে সকল হাসপাতালে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিতের দাবি জানান।’ ‘মারা যাওয়া ওই বৃদ্ধাকে সোমবার সকালে তার গ্রামের বাড়ি বিয়ানীবাজারে দাফন করা হয়েছে বলে জানান রিপন।খবর২৪ঘন্টা/এবি

পোস্টটি শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো খবর

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।

Developed By SISA HOST