সবার আগে.সর্বশেষ  
ঢাকাসোমবার , ২৯ জানুয়ারি ২০১৮
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সেজেগুজে থাকি বলে কত কথা যে শুনতে হয়!

অনলাইন ভার্সন
জানুয়ারি ২৯, ২০১৮ ১:১৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

খবর ২৪ ঘণ্টা, বিনোদন ডেস্ক: সোনম কপূর এ রকমই। সাজিয়েগুছিয়ে কথা বলার বদলে মনে যা রয়েছে, সেটাই সপাটে বলে দেন। সহশিল্পীকে পছন্দ না হলে যে তাঁর পক্ষে অভিনয় করা মুশকিল, সেটাই বা কতজন সোজাসুজি বলতে পারেন? সোনম কিন্তু বলেন। চিন্তাভাবনা, ছবি বাছা, স্টাইল-বোধ— সবেতেই তিনি অন্যদের চেয়ে স্বতন্ত্র। তাঁর সেই স্বাতন্ত্র্যেরই পরিচয় পেল ‘ওবেলা’।

এখন ছবি বাছার সময় আগের চেয়ে অনেক বেশি ভাবনাচিন্তা করছেন, তাই না?
কেন বলুন তো আপনার এমন মনে হল?

এই যে ছবিগুলো করছেন এখন… ‘প্যাডম্যান’, সঞ্জয় দত্তের বায়োপিক, ‘বীরে দি ওয়েডিং’ কিংবা ‘এক লড়কি কো দেখা তো অ্যায়সা লগা’— প্রত্যেকটা তো আলাদা আলাদা ধরনের…।
ওভাবে প্ল্যান করে কিছু করিনি সত্যিই। আমার এমন কোনও কড়াকড়িও নেই যে, একবার কোনও ছবি করে ফেললে সেই ধরনের অন্য কোনও ছবি আর করবই না! ছবি সাইন করার পর অত কিছু ভাবিও না সত্যি বলতে কী। জাস্ট ঠিক কাজটা করায় বিশ্বাস করি। আসলে কী জানেন তো…।

কী?
সকলে ভাবে আমি খুব স্মার্ট। আমি কিন্তু ততটাও স্মার্ট নই (হাসি)!

‘বীরে দি ওয়েডিং’ও তো ‘আয়েষা’র মতোই চিক ফ্লিক…।
(কথার মাঝেই) এই চিক ফ্লিক’টা বলবেন না প্লিজ! খুব খারাপ লাগে শুনতে। নায়কপ্রধান ছবি হলে কি আমরা সেটাকে স্টাড ফিল্ম বলি? আমি তো বলি না! ‘বীরে দি ওয়েডিং’কে বরং এখনকার মহিলাদের উপযোগী একটা ছবি বলতে পারেন।

‘আয়েষা’র থেকে ‘বীরে…’ কতটা আলাদা?
পুরোটাই আলাদা। ‘আয়েষা’ আট বছর আগের ছবি। আর ওখানে আমিই প্রধান ভূমিকায় ছিলাম। এখানে আরও তিনজন অভিনেত্রী রয়েছেন লিড রোলে।

এ রকম ক্ষেত্রে শিল্পীদের মধ্যে ভাল সম্পর্ক থাকা কতটা জরুরি?
সহশিল্পীর সঙ্গে ভাল সম্পর্ক থাকাটা খুবই জরুরি। না হলে পরদায় কেমিস্ট্রিটা বোঝা যাবে কী করে? অ্যাক্টিং ইজ অল অ্যাবাউট রিঅ্যাক্টি। একে অপরকে না বুঝলে, হঠাৎ যদি কোনও দৃশ্যে ইম্প্রোভাইজেশনের দরকার পড়ে তখন কী করব?

তার মানে আপনি কখনও এমন কোনও অভিনেতার সঙ্গে কাজ করবেন না, যাঁকে আপনি পছন্দ করেন না?
ওই যে বললাম, একে অপরকে বোঝাটা জরুরি। সেটা না হলে মুশকিল, কারণ তখন একদিকে আপনাকে ছবিটায় অভিনয় করতে হবে। আরেকদিকে সহশিল্পীকে পছন্দ করারও অভিনয় করতে হবে! আমি বাবা অত পারব না!

নায়িকাপ্রধান ছবিতে এখনও সেভাবে প্রথম সারির নায়কদের দেখা যাচ্ছে না কেন?
এই পরিস্থিতিটা তাড়াতাড়ি পাল্টালে খুব ভাল হয়। আমি যখন ‘খুবসুরত’ করেছিলাম, ফওয়াদকে (খান) ডেকে আনতে হয়েছিল আমার বিপরীতে কাজ করার জন্য। দুর্ভাগ্যজনক হলেও এটাই সত্যি।

‘ডিয়ার জিন্দেগি’ বা ‘সিক্রেট সুপারস্টার’ অবশ্য ব্যতিক্রম…।
হ্যাঁ, শাহরুখ (খান) সাহস দেখিয়েছিলেন ‘ডিয়ার জিন্দেগি’ করার। কী দুর্দান্ত অভিনয়টাই না করেছিলেন বলুন! দর্শক-সমালোচক, সকলেই প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছিলেন ওঁকে। একই রকম প্রতিক্রিয়া ফওয়াদও পেয়েছিল ‘খুবসুরত’এর পরে। ছেলেরা আসলে বোঝে না, যে ফিমেল-সেন্ট্রিক ফিল্মে নায়িকার পাশাপাশি তাদের দেখতে চাওয়া হচ্ছে মানে তারা মেয়েদের ফেভারিট। আর মেয়েদের যারা প্রিয় হয়, তাদের তো ভাগ্য খুলে গেল (হাসি)! মেয়েদের লয়্যালটি সহজে মুছে যায় না।

সঞ্জয় দত্তের বায়োপিকে আপনার চরিত্রটা ক্যামিও। স্ক্রিন টাইম ঠিক কতটা ম্যাটার করে বলে আপনার মনে হয়?
আমার কাছে তো একটুও ম্যাটার করে না, যদি চরিত্রটা গুরুত্বপূর্ণ হয়। জাস্ট একটা গানে হট গার্ল হওয়ার জন্য কোনও ছবিতে আমি কাজ করব না। ওটা তো স্রেফ সময় নষ্ট! কিন্তু একটা বিরো (ভাগ মিলখা ভাগ) কিংবা একটা বিট্টুর (দিল্লি সিক্স) চরিত্র পেলে নিশ্চয়ই করব। ওই চরিত্রগুলো গল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। চরিত্রগুলোয় সাবস্ট্যান্স রয়েছে। আসলে স্ক্রিন টাইম কতটা, তার চেয়ে অনেক জরুরি হল সেই সময়টুকুর মধ্যে কী করার সুযোগ থাকছে অভিনেতার কাছে। অর্থহীন দু’টো দৃশ্য, তিনটে গানে থাকার চেয়ে আমি ছোট কিন্তু অর্থবহ চরিত্রই বরং করব।

একটু আগে বলছিলেন, চিক ফ্লিক শব্দটা আপনার পছন্দ নয়। আপনার সম্পর্কেও তো একটা বিশেষণ ব্যবহার করা হয়, যেটা মোটেই পছন্দ করেন না আপনি…।
(অবাক হয়ে) কী বিশেষণ বলুন তো?

ফ্যাশনিস্তা!
(জোরে হাসি) তাই বলুন! হ্যাঁ, কেউ আমাকে ফ্যাশনিস্তা বললে ভাল লাগে না সত্যিই। আসলে এই শব্দটার মানেই বুঝি না ঠিক করে। ফ্যাশনিস্তা হওয়ার চেয়ে স্টাইলিশ হওয়াটা বেশি দরকার বলে মনে হয় আমার। যার সেন্স অফ স্টাইল রয়েছে আর যে লেটেস্ট ফ্যাশন ফলো করছে— দু’জনে কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা। যার নিজের স্টাইল সম্পর্কে ঠিকঠাক ধারণা রয়েছে, তার কোনও ফ্যাশন ট্রেন্ড মেনে চলার দরকারই পড়ে না! এই যে এয়ারপোর্ট লুক বা জিম লুক— এগুলোও আমি চেষ্টা করে তৈরি করি না কখনও। যেমন পোশাক পরলে স্বচ্ছন্দ লাগে, সেটাই পরি।

আপনার সাজগোজ নিয়ে চর্চা তো চলতেই থাকে…।
সত্যি! সব সময় সেজেগুজে থাকি বলে কত কথাও যে শুনতে হয় কতজনের কাছে (হাসি)! তাদের বলি, আমার সাজতে ভাল লাগে তাই সাজি। তোমাদের ভাল না লাগলে সেজো না!

র‌্যাম্পে হাঁটা আগের চেয়ে কমিয়ে দিয়েছেন কি ছবির চাপে?
তা নয়। যে ডিজাইনাররা আমার কাছে খুব স্পেশ্যাল, যাঁদের পোশাক আমার খুব পছন্দের, এখন শুধু তাঁদের শো’য়েই হাঁটি।

খবর ২৪ ঘণ্টা.কম/ জন

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।