
নিউজ ডেস্ক: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার ও সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, গাছের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করতে হবে। গাছ লাগানোর পাশাপাশি গাছ বাঁচানোর দায়িত্বও নিতে হবে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের আয়োজনে এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণ বাংলাদেশে নতুন কোনো বিষয় নয়। ছোটবেলা থেকেই মানুষ গাছ লাগানোর গুরুত্ব সম্পর্কে জেনে আসছে। তবে একসঙ্গে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য একটি বড় কর্মযজ্ঞ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সম্পৃক্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, কোনো লক্ষ্য নির্ধারণের পর তা কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, সেটি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। চট্টগ্রামেও বিপুল সংখ্যক গাছ লাগানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এখন বর্ষাকাল হওয়ায় রোপণ করা গাছগুলো সহজেই পানি পাচ্ছে উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, কিন্তু শুষ্ক মৌসুম এলে গাছের নিয়মিত পরিচর্যা, পানি দেওয়া ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। সঠিক গাছ নির্বাচন এবং যথাসময়ে পরিচর্যা না হলে বৃক্ষরোপণের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। তাই গাছ লাগানোর পাশাপাশি গাছ বাঁচানোর দায়িত্বও নিতে হবে।
থাইল্যান্ডের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সেখানে শিশুর জন্মের সঙ্গে সঙ্গে একটি গাছ লাগানোর সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। এতে শিশুর সঙ্গে গাছটিরও আবেগের সম্পর্ক তৈরি হয়। বাংলাদেশেও বৃক্ষরোপণকে এমন সামাজিক ও পারিবারিক সংস্কৃতিতে পরিণত করা গেলে গাছের প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধ আরও বাড়বে।
তিনি আরও বলেন, মানুষের জীবন ও জীবিকা পরিবেশের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। গাছপালা, নদী-খাল, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ ও জীববৈচিত্র্য সবকিছু মিলেই প্রকৃতির ভারসাম্য তৈরি হয়। পরিবেশের ক্ষতি করে কোনো উন্নয়নই দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হতে পারে না।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দ্রুত উন্নয়ন ও শিল্পায়নের ফলে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, পরবর্তীসময়ে এসব দেশের বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে পরিবেশগত ক্ষতি মোকাবিলায়। চীনসহ বিভিন্ন দেশ শিল্পায়ন ও উন্নয়নের পাশাপাশি নদী, খাল ও জলাশয় পরিষ্কার এবং পরিবেশ পুনরুদ্ধারে ব্যাপক কার্যক্রম নিয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশকেও শিক্ষা নিতে হবে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
খবর২৪ঘন্টা/মইসে
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।