সবার আগে.সর্বশেষ  
ঢাকাসোমবার , ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজশাহীতে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে চলছে প্রাইভেট হোমের নামে কোচিং

R khan
ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৮ ৮:৪২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বিশেষ প্রতিবেদক :
সরকারী নির্দেশ অমান্য করে রাজশাহী মহানগরীতে প্রাইভেট হোমের নামে চলছে কোচিং। এসব প্রাইভেট হোম নামধারী কোচিং সেন্টারগুলো প্রত্যেকে ব্যাচে ১৫-৩০ জন শিক্ষার্থী পড়াচ্ছে। এসএসসি পরীক্ষা শুরুর আগে থেকেই সরকারী নির্দেশনার তোয়াক্কা করছে না তারা। এ নিয়ে সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে প্রাইভেট হোমগুলো। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও কোচিংগুলোর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এ কারণে তারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

সরজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিক্ষানগরী হিসেবে পরিচিত রাজশাহী মহানগরীর কাদিরগঞ্জ, বর্ণালী, মালোপাড়া, সাহেব বাজার ও সিটি ভবনের পাশে বেশ কয়েকটি প্রাইভেট হোমের নামে কোচিং চলছে।

সোমবার নগর ভবনের অপর পাশে অবস্থিত রানা ম্যাথ, অনিক ম্যাথ ও শুভ ম্যাথে চলছে শিক্ষার্থী পড়ানোর কাজ। সেখানে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাচে শিক্ষার্থীরা প্রাইভেট পড়ে যাচ্ছে। প্রতিটি ব্যাচে প্রায় ১৫ থেকে ৩০ জন পর্যন্ত শিক্ষার্থী রয়েছে। অথচ সরকার এসএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার ৭ দিন আগে থেকে কোচিং সেন্টার ও প্রাইভেট হোমগুলো বন্ধের নির্দেশনা দেয়। সেই নির্দেশনা মোতাবেক কিছু কোচিং সেন্টার ও প্রাইভেট হোম বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। আর কিছু মালিক কৌশলে কোটিং প্রাইভেট হোম নাম দিয়ে চালাচ্ছে। যে নামে তারা নির্বিঘ্নে প্রাইভেট চালাচ্ছে। আর নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন নজরদারি নেই।

স্থানীয় অভিভাবকগণ অভিযোগ করে বলছেন, সরকারী নির্দেশা থাকার পরেও কি করে এক শ্রেণীর অসাধু শিক্ষক ও প্রাইভেট হোমের মালিক নির্বিঘ্নে শিক্ষার্থীদের পড়াই? এরা নাম পাল্টে প্রাইভেট ও বিভিন্ন ম্যাথের নাম দিয়ে কৌশলে তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তাই দ্রুত এসব অসাধু প্রাইভেট হোম নামধারী কোচিং সেন্টারের মালিকদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান তারা।
রাফি নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, সরকার এগুলো বন্ধ করতে বলার পরেও কিভাবে তারা প্রাইভেট হোম চালাচ্ছে? এত বড় সাহস তারা কোথায় পায়? দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছি।

কাদিরগঞ্জ এলাকার এক কোচিং সেন্টার থেকে বের হয়ে আসা শিক্ষার্থী নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, আমাদের কোচিং বন্ধ হয়নি তো। আমরা প্রতিদিনই পড়েছি।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে এক কোচিং সেন্টারের মালিক বলেন, আমরা সরকারি নির্দেশনা পাওয়ার পর থেকেই কোচিং সেন্টার বন্ধ করে দিয়েছি। কিন্তু কিছু কিছু কোচিং মালিকরা প্রাইভেট নাম দিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছে। এর বিরুদ্ধে প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না তা বুঝতে পারছি না।
এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার ইফতে খায়ের আলম বলেন, এসএসসি পরীক্ষা শুরুর আগে থেকে ও পরীক্ষা চলাকালে কোচিং সেন্টার বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া আছে। কোচিংগুলো বন্ধ আছে। কেই যদি গোপনে কোচিং বা প্রাইভেট হোম চালায় তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কাউকে কোন ছাড় দেওয়া হবে না।

খবর২৪ ঘন্টা/এমকে

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।