আজ মঙ্গলবার, ৮ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ২৩শে আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে লাগামহীনভাবে বেড়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় সবজির দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজশাহী মহানগরীর বাজারগুলোতে লাগামহীনভাবে বেড়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় সবজির দাম। হঠাৎ সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সমাজের কম আয়ের মানুষেরা। যেভাবে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ছে সেই তুলনায় মানুষের আয় বাড়েনি। গত সপ্তাহের টানা বৃষ্টির অজুহাতে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা পাইকারি বাজারে সংকট তৈরি করে নিত্য প্রয়োজনীয় সবজির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। আর খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে ব্যাপক হারে। প্রায় প্রত্যেকটি সবজির দাম বেড়েছে দেড় থেকে দুই গুণ পর্যন্ত। এমনকি ভেণ্ডির দাম বেড়েছে আড়াই গুণ। মঙ্গলবার সরজমিনে

রাজশাহীর কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে সবজির অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়া দামের চিত্র। কোর্ট স্টেশন বাজারে বিক্রেতাদের থেকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০ টাকা কেজির ভেণ্ডি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজিতে, ৪০ টাকা কেজির করলা ৬০ টাকা, ৫০ টাকা কেজির কচু বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ২০ টাকা কেজির লাল শাক বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, ৪০ টাকা কেজির বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়, ১০ টাকা কেজির মরা পুঁইশাক বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়, ২৫ টাকা কেজির পটল বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, ২০ টাকা কেজির ঝিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায় ও ৪০ টাকা কেজির কাঁকরল

বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। এ ছাড়া দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা কেজি দরে। বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় মাছের দাম কেজিতে রকম ভেদে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আদা ও রসুন ও গুড়া মরিচের দাম স্বাভাবিক রয়েছে। বাজারে শুধু আলু পাওয়া যাচ্ছে ২০ টাকা কেজিতে। এদিকে, মাত্র কয়েকদিনের তুলনায় নিত্য প্রয়োজনীয় দাম কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ খেটে খাওয়া কম আয়ের মানুষজন। অনেক ক্রেতাকে বাজার থেকে শুধু আলু কিনে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে। সবজি কিনতে আসা আব্দুল্লাহ নামের এক ক্রেতা অভিযোগ

করেন, ব্যবসায়ীরা বৃষ্টির দোহাই দিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে নিত্য প্রয়োজনীয় সবজির দাম বেশি লাভের আশায় বাড়িয়ে দিয়েছে। যারা সাধারণ মানুষকে কষ্ট দেওয়ার জন্য সবজির দাম বাড়িয়েছে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা প্রয়োজন। যাতে কোন ব্যবসায়ী আর এমন করতে না পারে।
রাহিম নামের আরেক ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, যেভাবে সবকিছুর দাম বাড়ছে সেভাবেতো আর আয় বাড়েনি। কিভাবে যে কি করবো তা ভেবে পাচ্ছি না। রাজশাহীল সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উচিত নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা ও

বাজার কম আয়ের মানুষের সাধ্যের মধ্যে রাখা। শুধু এই দুই ক্রেতায় নয়। বাজার করতে আসা প্রায় ক্রেতার কাছ থেকে দাম বৃদ্ধির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে সবজি ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের এমন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বৃষ্টির কারণে সবজির গাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ কম হচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে বাজারে। ইচ্ছা করে দাম বাড়ানো হয়নি।

এর/আর


Download our Mobile Apps Today