ঢাকারবিবার , ১০ ডিসেম্বর ২০১৭
                     
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজধানীতে শপিংমলে ভুয়া ডিবি সন্দেহে গাড়ি ভাংচুর

admin
ডিসেম্বর ১০, ২০১৭ ১:২৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

খবর২৪ঘণ্টা.কম, ডেস্ক: রাজধানীর মৌচাকের ফরচুন শপিং মার্কেট থেকে এক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার সময় ‘ভুয়া ডিবি’ সন্দেহে একটি মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো-চ-৫৩-৫৮৫১) ভাংচুর করা হয়েছে।

গাড়িটিতে পুলিশের স্টিকার না থাকায় এবং ডিবি পরিচয়ধারী ব্যক্তিদের শরীরে ডিবির পোশাক না থাকায় ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে সাধারণ জনগণ। এমনকি ডিবির সদস্যরা আইডি কার্ড দেখাতে না পারায় জনগণ ভুয়া ডিবির স্লোগান দিয়ে ডিবির ওই সদস্যদের উপড় চড়াও হয়। পরে পুলিশ ও ডিবির অন্য সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে লাঠিপেটা শুরু করলে তুলকালাম পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

শনিবার দিবাগত রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, রাত সাড়ে ৮টার ফরচুন মার্কেট থেকে এক ব্যবসায়ীকে আটক করে ডিবির একটি টিম। সে সময় আলামিন নামে আরো একজনকে আটক করা হয়। কিন্তু ওই টিমের সদস্যদের ডিবির পোশাক না থাকায় এবং পরিচয়পত্র না দেখাতে না পারায় গুজব রটে ভুয়া ডিবি এক ব্যবসায়ীকে তুলে নিচ্ছে। আর এতেই ভিড় করতে থাকে সাধারণ জনতা।

কি কারণে ওই ব্যবসায়ীকে আটক করা হলো এমন প্রশ্নের উত্তর না পেয়ে তারা মাইক্রোবাসটি ভাংচুর করে।
পরে থানা পুলিশ ও ডিবির সদস্যরা ঘটনাসস্থলে এসে লাঠিপেটা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ

সময় স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে।

আটককৃত আলামিন জানান, তিনি একটি প্রাইভেট ফার্মে চাকরি করেন। থাকেন টিএনটি কলোনিতে। রাতে কেনাকাটার জন্য ফরচুন শপিংমলে গেলে ডিবি পরিচয়ে তাকে আটক করে মাইক্রোবাসে তোলা হয়। তিনি ডিবির আইডি কার্ড দেখতে চাইলে তাকে দেখানো হয়। আলামিনকে জানানো হয় একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি অপর আটককৃত ব্যবসায়ী। ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তাকে আটক করা হয়েছে। পরে জনগণের তোপের মুখে আলামিনকে ছেড়ে দেয়া হলেও ওই ব্যবসায়ীকে নিয়ে যাওয়া হয়।

ডিবির যে গাড়িটি ভাঙচুর করা হয় ওই গাড়ির চালকের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। ওই চালক নিজের নাম প্রকাশ না করে তার মোবাইল ফোনে একটি ছবি দেখিয়ে বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কারপ্রাপ্ত অফিসার। কোথায় আছেন জানতে চাইলে প্রথমে বলেন, ডিবিতে। কোন জোনে কি হিসাবে আছেন জানতে চাইলে বলেন, সোয়াত চেনেন। আমি সোয়াতের লোক। সোয়াতের লোক আসামি ধরতে আসার কথা নয়, আপনার এখানে কি? এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে পারেননি তিনি। এমনকি পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তাও দেখাতে পারেননি।

রাত ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এরা সবাই আসল ডিবি। তাহলে গাড়িতে স্টিকার এবং ডিবির পোশাক নেই কেন? জানতে চাইলে বলেন, এটি তদন্ত সাপেক্ষ বিষয়। তদন্ত না করে কিছুই বলা যাবে না।

খবর২৪ঘণ্টা.কম/জন

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।