সবার আগে.সর্বশেষ  
ঢাকামঙ্গলবার , ৯ জানুয়ারি ২০১৮
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভোলাহাট প্রশাসনের অভিভাবক শূন্য, উপজেলার বেহাল অবস্থা

R khan
জানুয়ারি ৯, ২০১৮ ১২:৫৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ভোলাহাট প্রতিনিধিঃ ভারপ্রাপ্ত, দায়িত্বপ্রাপ্ত আর অতিরিক্ত দায়িত্ব। এমন জোড়াতালি দিয়ে চলছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলা প্রশাসন। এমন পরিস্থিতিতে সরকারী সেবা বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলার মানুষ। গত ২৮ ডিসেম্বর উপজেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ অভিভাবক উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফিরোজ হাসান উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করতে বিদেশ গমন করায় পদটি শূন্য হয়। অতিরিক্ত দায়িত্ব পান গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার। কিন্তু দীর্ঘ দিনেও ভোলাহাটে এসে প্রয়োজনীয় সময় দিতে পারেননি। এদিকে দীর্ঘ ২৫বছর পর উপজেলা ভূমি অফিসে যোগদেন একজন সহকারী কমিমনার (ভূমি)। তিনিও ক’দিনের ছুঁয়া দিয়ে বদলি হয়ে যান অন্যত্রে। পদটি শুন্য হয়ে যায়। এ পদটি তারপর থেকে দায়িত্বের উপর অতিরিক্ত দায়িত্ব গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার উপর। এরপর যেতে হয় কৃষির উন্নয়নে সরসরি সম্পৃক্ত বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এ অফিসটিতেও দীর্ঘ দিন ধরে সহকারী প্রকৌশলির প্রধান পদটি শূন্য। কিন্তু এ পদটিরও দায়িত্বটিও গোমস্তাপুর উপজেলা উপর। এবার উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা পদটি শূন্য দীর্ঘদিন থেকে। দায়িত্ব পালন করছেন নিজের ইচ্ছে মত শিবগঞ্জ উপজেলার হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা। উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা কখন থেকে পদটি শূন্য সংশ্লিষ্ট অফিসের কর্মচারীরাই ভূরে গেছেন। এ পদের দায়িত্বে রয়েছেন শিবগঞ্জ উপজেলার কর্মকর্তা। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা পদটি প্রায় দেড়যুগ ধরে শূন্য। দীর্ঘদিন এর ভার কাঁধে নিয়ে চলে আসছেন সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা। উপজেলা প্রকৌশলি পদটি শূন্য হয় গত ২৮ডিসেম্বর। এর দায়িত্বও পালন করছেন গোমস্তাপুর উপজেলার উপজেলা প্রকৌশলি। এদিকে প্রানি সম্পদ কর্মকর্তার শূন্যপদের দায়িত্বেও গোমস্তাপুর উপজেলা প্রানি সম্পদ কর্মকর্তা। এদিকে গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সটিতেও স্বাস্থ্য ও পঃ কর্মকর্তার পদ শূন্য। জোড়াতালি দিয়ে দায়িত্বরত এমবিবিএস চিকিৎসকেরা দায়িত্ব চালিয়ে নিচ্ছেন। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা এটিও পদ শূন্য। এপদের দায়িত্ব পালন করছেন গোমস্তাপুর উপজেলার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার পদটিও শূন্য। শিবগঞ্জ উপজেলার কর্মকর্তা দিয়ে চলছে  ভোলাহাটের এ বিভাগের কাজ। উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার পদটিও শূন্য। চলছে শিবগঞ্জ উপজেলার কর্মকর্তা দিয়ে। অপরদিকে উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তার পদটিও শূন্য । ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চলছে এর কাজ। সব মিলিয়ে বেহাল অবস্থা। এ সব অফিসের কাজের জন্য কর্মচারিদের ফাইল সই করতে যেতে হয় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে অন্য উপজেলায়। আর কখনও যদি এ সব দায়িত্বরত কর্মকর্তারা ভোলাহাটে আসেন তবে ক’য়েক ঘন্টার জন্য দায়সেরে চলে যান। এ সব গুরুত্বপূর্ণ পদে জরুরী ভিত্তিতে কর্মকর্তা নিয়োগ না দিলে ভোলাহাট উপজেলার নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত তো হবেই বিভিন্ন প্রকার উন্নয়নেও উপজেলাবাসি পিছিয়ে পড়বে। দ্রুত এ সব গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থায়ী কর্মকর্তা নিয়োগ চূড়ান্ত করে নাগরিক সুবিধা বস্তবায়ন ও উপজেলার উন্নয়ন ঘটাতে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছে দাবী করেছেন ভোলাহাটবাসি।

খবর২৪ঘণ্টা.কম/রখ

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।