
বাঘা প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাঘায় ভেজাল গুড় তৈরির কারখানায় দুই দিনে ৪ কারখানায় অভিযান চালিয়ে ৫৫ মণ গুড় জনস্মুখে ধ্বংশ করা হয়েছে। এর সাথে ২৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান অনন্যা পুলিশকে সাথে নিয়ে পৃথকভাবে এই অভিযান পরিচালনা করেন।
জানা গেছে, সোমবার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে আড়ানী পৌরসভার চকসিংগা দাঁড়পাড়া গ্রামের সবুজ হোসেন ও রকি হোসেনের ভেজাল গুড় তৈরীর কারখানায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় প্রশাসনের উপস্থিত টের পেয়ে চুলার উপর গুড় রেখে তারা পালিয়ে যায়। এ সময় ১৫ মণ গুড় জনস্মুখে ধ্বংশ করা হয়। এছাড়া ১২ বস্তা চিনি জব্দ করে স্থানীয় এতিম খানায় দেওয়া হয়েছে।
অপর দিকে বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকালে একই গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে কাজিম উদ্দিন গুড় তৈরী কারখানা স্থাপন করে চিনি, মোনালিসা, নানা রকম কেমিক্যাল, চুন, রং, হাইড্রোজ, ফিটকিরি, ডালডা ও আটা ব্যবহার করে গুড় তৈরী করছিলেন। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে ৩০ মন গুড় জনস্মুখে ধ্বংশ করা হয়। ১৫ বস্তা চিনি জব্দ করে স্থানীয়িএতিমখানায় দেওয়া হয়েছে। এর সাথে কাজিম উদ্দিনের ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া একই দিনে সকালে উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের পীরগাছা বাজারের দক্ষিণে নতুনপাড়া গ্রামের মহসিন আলীর ছেলে সোহেল রানার কারখানায় অভিযান চালিয়ে ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ সময় ১০ বস্তা চিনি জব্দ করে স্থানীয় এতিম খানায় দেওয়া হয়েছে। এর সাথে ১০ মণ গুড় জনস্মুখে ধ্বংশ করা হয়। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান অনন্যা বলেন, গুড়ের কারখানার মালিকরা অপরিস্কার ও বিষাক্ত রাসায়নিব দ্রব্য ব্যবহার করে গুড় তৈরী করছিলেন। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৪১ ধারায় জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া গুড় মোনালিসা, নানা রকম কেমিক্যাল, চুন, রং, হাইড্রোজ, ফিটকিরি, ডালডা ও আটা জব্দ করে জনস্মুখে ধ্বংশ করা হয়েছে। চিনি গুলো জব্দ করে স্থানীয় এতিম খানায় দেওয়া হয়েছে।
খবর২৪ঘন্টা/মইসে
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।