আজ বুধবার, ৩রা সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, ২০শে ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বাগমারায় কোটি কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য

khobor24ghonta.com

বাগমারা প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪১টি পদে দপ্তরি কাম নৈশ প্রহরী নিয়োগে কোটি কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য দুদকের অনুসন্ধানী তদন্তের দাবী এলাকাবাসীর।

জানা যায়, উপজেলার ৪১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম নৈশ প্রহরী নিয়োগের চাকুরী প্রার্থীদের কাছ থেকে ৭লক্ষ, ৯লক্ষ ক্ষেত্রে বিশেষে ১৩লক্ষ টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে চাকুরী প্রার্থীদের সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা যায়। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিরা এমপির নাম করে বিভিন্ন চাকুরী প্রার্থীর কাছ থেকে ৭,৯ ক্ষেত্রে বিশেষে ১৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনেকে জানান, চলতি মাসের ১৬ ও ১৭ তারিখে নিয়োগ বোর্ড গঠন করা হয়। এর পর থেকেই বেড়ে যায় নিয়োগ বাণিজ্যের অংকের পরিমান। গতকাল শনিবার গভীর রাতের কোন একসময় চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। গতকাল শনিবার এ খবর জানতে পেয়ে অনেক চাকুরী প্রার্থীরা তাদের নাম তালিকায় আছে কিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে দেখতে যায়। তালিকায় নাম না দেখে অনেকেই টাকা আদায়ের জন্য টাকা গ্রহনকারী ব্যক্তিদের কাছে ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে। অনেকেই রোববার সন্ধ্যায় টাকা ফেরত দেয়া হবে বলে বঞ্চিত চাকুরী প্রার্থীদেরকে জানায়। অনেকেই অভিযোগ করে বলেছেন এখন টাকা ফেরত না দিলেও সময়মতো ঠিকই টাকা আদায় করা হবে। জনগণকে আর বোকা বানানো যাবে না।

বালানগর গ্রামের আহম্মেদ আলী, সাগর আলী, বেনিপুর গ্রামের আব্দুল গাফ্ফার, দক্ষিণ কোয়ালিপাড়া গ্রামের খায়রুল ইসলাম জানান, আমরা বর্তমান এমপির প্রেস সচিবের কাছে ৬-৭লক্ষ করে টাকা জমা দিয়েছি। আমাদের মতো অনেকেই তার কাছে টাকা জমা দিয়েছে। কারণ সে ওই নিয়োগ বোর্ডের এমপি মনোনিত সদস্য। এই রকম ভাবে ৪১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১টি পদের বিপরীতে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

অপর দিকে দক্ষিণ কোয়ালিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল আহাদ কে নিয়োগ বোর্ডে রাখা হয়নি। অথচ, বেনিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন চাকুরী প্রার্থীর চাচা সভাপতি হলেও তাকে ঠিকই নিয়োগ বোর্ড রাখা হয়েছে।

এ নিয়োগকে কেন্দ্র করে বাগমারায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ বেধে যেতে পারে বলে অনেকেই আশংকা করছেন। এদিকে চাকুরী প্রার্থীরা অনেকেই সর্বস্ব বিক্রি করে নিয়োগ সিন্ডিকেটের হাতে টাকা তুলে দিয়েছে। কিন্তু তারা চাকুরী না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন দপ্তরি কাম নৈশ প্রহরী নিয়োগে খোলা মেলা ভাবেই ঘুষ গ্রহন করা হয়েছে এটা সবাই জানে। ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে না চাইলেও তারা জানান, কোন দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোরকে আগামী দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগমারাবাসীরা আর ভোট দিবেনা। তারা দুদকের সরেজমিনে তদন্তের দাবী জানিয়েছেন।

খবর২৪ঘণ্টা.কম/নজ


Download our Mobile Apps Today