সবার আগে.সর্বশেষ  
ঢাকাশনিবার , ২৪ মার্চ ২০১৮
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা দিলেন এরশাদ

R khan
মার্চ ২৪, ২০১৮ ৫:০২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

খবর২৪ঘণ্টা.কম, ডেস্ক: সংসদে প্রতিনিধিত্বকারি দলগুলোর প্রতিনিধি নিয়ে আগামী নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করেছেন সম্মিলিত জাতীয় জোটের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শনিবার জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটের মহাসমাবেশে জোটের চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ এ রূপরেখা তুলে ধরেন। এসময় তিনি বলেন, আমরা রূপরেখা দিয়েছি, সংসদে যে সব দল আছে তাদের প্রতিনিধি দিয়ে আগামী নির্বাচনের আগে মন্ত্রিসভা গঠন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন স্বাধীন থাকবে। কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।

তিনি আবারো স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে আমরা যারা সংসদে আছি তাদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করতে হবে। তখন আমরা সাধারণ কাজ করব। আমরা নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করব না। নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন। এটাই জাতীয় পার্টির রূপরেখা।

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, এদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। জনগণ ভোট দিতে পারুক এটা আমরা চাই। ইনশাআল্লাহ আগামীতে সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে সরকার বাধ্য থাকবে। দেশে সুষ্ঠ নির্বাচন হবে, জনগণের ভোটে জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় যাবে।

জাতীয় পার্টি আগামী নির্বাচনে সরকার গঠন ও ক্ষমতা গ্রহনের জন্য প্রস্তুত জানিয়ে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, মানুষ আমার কাছে প্রশ্ন করেন, আজকের মহাসমাবেশে কি বার্তা দেব, আমার প্রথম বার্তা হলো- আমরা ইতিহাস সৃষ্টি করব। আগামীতে সুষ্ঠু নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করব। দেশবাসীর জন্য এই আমার বার্তা।

তিনি বলেন, আজকের মহাসমাবেশ প্রমাণ করে আমরা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। দেশের ষোল কোটি মানুষ দেখে যাও, জাতীয় পার্টি ক্ষমতা যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। আগামীতে জয়ী হয়ে আমরাই সরকার গঠন করব।

মহাসমাবেশের লোকসমাগম দেখে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন এরশাদ। তার বক্তব্যেও সেই আবেগ ঝরে পড়ে। তিনি বলেন, আবেগে আমার কণ্ঠরুদ্ধ, এতবড় সমাবেশ আমার জীবনে কখনো দেখি নাই। আশা করি আগামীতে এর চেয়েও বড় সমাবেশ হবে। জনগণের ভোটে ইনশাআল্লাহ জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় আসবে। অত্যাচার লুটপাট বন্ধ হবে, মানুষ শান্তি পাবে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে এরশাদ বলেন, তোমাদের কাছে আমার প্রশ্ন, আজকের এটি মহাসমাবেশ না, জনসমুদ্র, নাকি মহাসমুদ্র। আমার হ্রদয়, আমার মন ভরে গেছে আজ। মহাসমাবেশ সফল করতে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ। মহাসচিব না থাকলে এটা করা সম্ভব হত না।

তিনি বলেন, ঢাকা শহর অবরুদ্ধ, সব রাস্তা বন্ধ। মানুষ চলাচল করতে পারছে না। আমরা প্রমাণ করেছি জাতীয় পার্টি আছে, আগামীতে সরকার গঠনের মত শক্তি অর্জন করেছে। এই শক্তি হলেন আপনারা, দেশের জগনণই আমাদের শক্তি। দেশের মানুষকে নিয়েই আমরা ক্ষমতায় যাব।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমালোচনা করে সম্মিলিত জোটের চেয়ারম্যান এরশাদ বলেন, আমরা ২৫ বছর ক্ষমতায় ছিলাম না। এসময়ে দুটি দল ক্ষমতায় ছিল। তারা জনগণকে কি দিয়েছে? কিছুই দিতে পারেনি। কি পেয়েছে? অন্যায় অবিচার, নারীদের লাঞ্জনা, চাকরি নেই, মানুষ বেকার। জনগণকে তারা কিছুই দিতে পারেনি। তাদের মুখে শুধু বড় বড় কথা। আমরা নাকি এখন উন্নয়নশীল দেশে। ঢাকায় চাকচিক্য, অনেক লাইট, বাজিপোড়ানো হচ্ছে। ঢাকার বাইরে গিয়ে দেখেন দেশের মানুষের কি অবস্থা। মানুষ কিভাবে বাস করছেন। দু বেলা খেতে পারে কিনা। ঢাকার বাইরে যান, দেখেন আপনারা কতটুকু উন্নত করেছেন। কত উন্নয়ণশীল দেশ হয়েছে বাংলাদেশ।

‘‘মানুষ কি চায়? শান্তিতে বাস করতে চায়। নিরাপত্তা চায়, নিরাপদে ঘুমাতে চায়। সরকারের কাছে কিছু নাই। আমরা ক্ষমতায় আসলে মানুষকে নিরাপত্তা দেব। মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারবেন। মানুষ ভাল থাকবে। আমরা জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ’’-বলেন এরশাদ।

সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, এখন সমাজে মাদক আর ইয়াবা। যুবসমাজের চাকরি নেই। প্রতিবছর তিনলক্ষ যুবক চাকরির জন্য যোগ্যতা অর্জন করে। কিন্তু চাকরি নেই, তারা মাদকের আশ্রয় নেয়। দেশ ধ্বংসের দিকে চলে যাচ্ছে। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, ক্ষমতায় গেলে দেশকে রক্ষা করব, যুবসমাজকে রক্ষা করব।

তিনি বলেন, খবরের কাগজ খুললেই নারী ধর্ষণ, শিশু ও মানুষ হত্যা। শুধু হত্যা আর রক্ত। শান্তি কোথাও নেই। শান্তি শুধু ঢাকায়, ঢাকার বাইরে শান্তি নেই। আমরা শান্তি ফিরিয়ে আনতে চাই।

শিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তনের কথা জানিয়ে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার কথা বলি, শিক্ষায় পচন ধরেছে। যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সহনীয় পর্যায়ে ঘুষ নেবেন। সেই মন্ত্রী এখনো আছেন। শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন। আগে পাস করা কঠিন ছিল, এখন ফেল করা কঠিন। এভাবে দেশ চলতে পারে না। পরিবর্তন আনতে হবে, আমরাই আনব।

তিনি বলেন, ব্যাক ‍লুট, অর্থনৈতিক মন্দা। দেশের মানুষ অনিশ্চয়তার মধ্যে বাস করছে। আমরা ক্ষমতায় আসলে মানুষকে নিরাপত্তা দেব। শান্তি দেব। ব্যাংক লুট বন্ধ করব। লুটেরাদের বিচার করব।

এখন ঘরে ঘরে পাকা রাস্তা, কে করেছিল জাতীয় পার্টি করেছে। উন্নয়ন সমৃদ্ধি আমরাই করেছি। আমাদের উন্নয়ন বলতে হলে অনেক কথা বলতে হয়। তাই উন্নয়ন সমৃদ্ধির জন্য, পরিবর্তনের জন্যই জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় বসাতে হবে।

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শনিবার সকালে কোরআন তেলাওয়াত, গিতা পাঠ এবং জাতীয় ও দলীয় সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্যদিয়ে শুরু হয় সম্মিলিত জাতীয় জোটের মহাসমাবেশ। মহাসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জোটের চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ।

দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য মহানগর উত্তর সভাপতি এস এম ফয়সল চিশতী, জাপা নেতা রেজাউল ইসলাম ভুইয়া, ইকবাল হোসেন রাজু, গোলাম মোহাম্মদ রাজু ও ইসলামী ফ্রন্টের সওম আব্দুস সামাদের সঞ্চালনায় মহাসমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিরোধী নেতা ও জাপা সিনিয়র কো চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ এমপি, কো চেয়ারম্যান জি এম কাদের, দলের মহাসচিব এবি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি, ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান আল্লামা এম এ মান্নান, জাপা প্রেসিডিয়াম সদস্য এম এ সাত্তার, কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, মশিউর রহমান রাঁঙ্গা এমপি, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, মুজিবুল হক চুন্নু এমপি, সালমা ইসলাম এমপি, মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, মুজিবুর রহমান সেন্টু, তাজুল ইসলাম চৌধুরী, বিএনএ চেয়ারম্যান সেকান্দর আলী মনি, ইসলামী মহাজোটের চেয়ারম্যান আবু নাছের ওয়াহেদ ফারুক, ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব এম এ মতিন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

খবর২৪ঘণ্টা.কম/রখ

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।