,

তদবির ছাড়াই পুলিশে চাকুরী হয় প্রমাণ করলেন রাজশাহীর এসপি

ছবি : খবর ২৪ ঘণ্টা

ওমর ফারুক :
কোন ধরণের তদবির ও টাকা-পয়সা ছাড়াই মেধার ভিত্তিতে পুলিশে চাকুরী হয় তা প্রমাণ করে দেখালেন রাজশাহীর নয়া পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ। পুলিশ কন্সটেবল নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ পুলিশে সৎ, দক্ষ ও মেধাবী জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে বিষয়টি চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে এ সফলতা পেয়েছেন। এবারের পুলিশ কন্সটেবল নিয়োগে রাজশাহী জেলার এমনও ছেলেমেয়ে চাকুরী পেয়েছেন যারা একেবারে হতদরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা। আবেদনকারীদের মধ্যে অনেকের পরিবারের পক্ষ থেকে পরীক্ষার খরচ বহন করার মত সাধ্য ছিল না। তারাও পুলিশে চাকুরী পেয়েছেন কোন রকম তদবির ছাড়াই।

পুলিশে চাকুরী প্রাপ্তরা: ছবি : সরবরাহকৃত।এ সব পরিবার থেকে নিয়োগ পাওয়া ছেলেমেয়েদের সোমবার সকালে পুলিশ সুপার নিজ কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে মিষ্টি মুখ করান।
তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মাঝগ্রামের পঙ্গু কৃষক শুকুর আলীর ছেলে আসাতুল আলী, গোদাগাড়ী উপজেলার শ্রীমন্তপুর গ্রামের ট্রাক চালক হাবিবুরের ছেলে রাকিবুল ইসলাম, চারঘাট উপজেলার মিয়াপুর গ্রামের চা দোকানদার মকবুলের ছেলে সবুর আলী, একই উপজেলার আস্করপুর গ্রামের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে রফিকুল্লাহ, মোহনপুর উপজেলার তশোপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক জনাব আলীর ছেলে জাকারিয়া হোসেন, বাঘা উপজেলার উত্তর মিলিক বাঘার চা দোকানদার আজিজুলের ছেলে আশরাফুল, রাজশাহী মহানগরের মতিহার থানার নওদাপাড়া এলাকার রড মিস্ত্রী আব্দুল মালেকের মেয়ে বৃষ্টি খাতুন, চারঘাটের অনুপমপুর গ্রামের ভুটভুটি চালক জিল্লুরের মেয়ে প্রিয়া খাতুন, গোদাগাড়ীর আলীপুর গ্রামের কাঠমিস্ত্রী সুশান্ত শর্মার মেয়ে তুলসী শর্মা ও মতিহার থানার সুচরণ এলাকার (বর্তমানে রাসিকের ঝাড়–দার) শহিদুলের মেয়ে আয়েশা আক্তার। নিয়োগ পরীক্ষার ভাইভা বোর্ডে আরো যারা দায়িত্ব পালন করেন তারা হলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাহবুব আলম খান পিপিএম ও নওগাঁর মান্দা সার্কেলের সিনিয়র এএসপি হাফিজুল ইসলাম।সাক্ষাতকার গ্রহণকালে। ছবি: খবর ২৪ ঘণ্টা।

সোমবার দুপুরে পুলিশ সুপার তাঁর কার্যালয়ে খবর ২৪ ঘণ্টাকে বলেন, বাংলাদেশ পুলিশে মেধাবী ও সৎ মানুষ দরকার। সেই কারণে এবারের পুলিশ কন্সটেবল নিয়োগের বিষয়টি চ্যালেঞ্জিং ছিল। সে কারণে নিয়োগ পরীক্ষা স্বচ্ছ করার জন্য আগে থেকেই চেষ্টা করা হয়। দালালরা যাতে সুবিধা না করতে পারে বা কারো থেকে চাকুরী দেওয়ার নাম করে কোন টাকা গ্রহণ করতে না পারে সে ব্যাপারে পুলিশ সতর্ক ছিল। পুলিশ হেডকোয়ার্টারের একটি টিম সার্বিক বিষয় মনিটরিং করে। ভালভাবে পরীক্ষা গ্রহণ করার জন্য ব্যবস্থা করা হয়। দরিদ্র পরিবারের মেধাবীরা যাতে সুযোগ পায় সেজন্য খাতাগুলোও মনিটরিং করা হয়। প্রকৃত মেধাবীরাই যাতে সুযোগ পায় সেই প্রক্রিয়ায় কাজ করা হয়েছে। 

পুলিশ সুপারের সভাকক্ষে মিষ্টিমুখ করছেন চাকুরীপ্রাপ্করা। ছবি: সরবরাহকৃত।

চাকুরী দেওয়ার কথা বলে দালাল বা পুলিশের মধ্যেকার কেউ যাতে সুবিধা করতে না পারে সে ব্যাপারেও পুলিশ সতর্ক ছিল। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই গত ৪ মার্চ থেকে সতর্কবস্থায় ছিলাম। মেধা তালিকা অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কারো তদবিরের প্রার্থীকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। যার ফলে এবার অনেক দরিদ্র পরিবারের সন্তানরা পুলিশে চাকুরী পেয়েছে।
পুলিশ সুপার চাকুরী প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, পুলিশে চাকুরী নেওয়ার জন্য দালাল বা তদবিরের মাধ্যমে টাকা দিয়ে চাকুরী নেওয়ার চিন্তা না করে ভালভাবে পড়াশোনা করতে হবে। মেধা খাটিয়ে পড়াশোনা করলেই চাকুরী পাওয়া সম্ভব। চাকুরী পাওয়ার জন্য কোন রকমের তদবির করা যাবে না। তদবির করলে চাকুরী পাওয়া সম্ভব নয়। তদবিরেই চাকুরী হয় সেই ধারণাকে পেছনে ফেলতে এবারের নিয়োগ পরীক্ষা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এটা শুরু হলো। এখন থেকে এভাবেই নিয়োগ হবে।
উল্লেখ্য, এবার রাজশাহী জেলায় পুলিশ কন্সটেবল পদে ২০০ জন নিয়োগ পেয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ সাধারণ কোটায় ৮৪ জন, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৭১ জন, পোষ্য কোটায় ১৩ জন, উপজাতি কোটায় ৮ জন, এতিম কোটায় ২ জন ও নারী সাধারণ কোটায় ১৮ জন, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৩ জন ও উপজাতি কোটায় ১ জন।

খবর২৪ঘণ্টা/এমকে