সবার আগে.সর্বশেষ  
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
আজকের সর্বশেষ সবখবর

খালেদা জিয়া এতিমের টাকা চুরি করেছেন : শেখ হাসিনা

R khan
ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৮ ৬:০৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক : খালেদা জিয়া এতিমের টাকা চুরি করেছেন বলেই আজ তাকে শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বিএনপি আন্দোলন করে। কিসের আন্দোলন? টাকা চুরি করে তাদের নেত্রী জেলে গেছেন। চোরের জন্য আন্দোলন করছে।

বৃহস্পতিবার রাজশাহীর সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের জেলে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া গ্রেফতার হয়েছেন। ১৯৯১ সালে এতিমখানা করবে বলে বিদেশে থেকে টাকা এনেছেন। সেই এতিমখানা কই? এতিম কই? এতিমদের নামে টাকা এনে ওই টাকা নয়-ছয় করে লুটেপুটে খেয়েছেন। লুট করা, চুরি করা তাদের চরিত্র। ২৭ বছরে এতিমের টাকা সুদে-আসলে বেড়েছে, তা খেয়েছেন খালেদা জিয়া আর তার দলের লোকজন। এতিমের কোনও কাজে লাগেনি।

তিনি বলেন, বিএনপি মানুষের কল্যাণ করতে পারে না। লুটপাট করে খেতে পারে। কেউ এতিমের টাকার লোভ সামলাতে না পারলে দেশের মানুষকে দেবেটা কী?

রাজশাহীবাসীদের উদ্দেশ্য করে আওয়াম লীগ সভাপতি বলেন, আমরা আপনাদের উপহার নিয়ে আসি। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে কী করেছিল? তারা আপনাদের দিয়েছিল লাশ উপহার। মা-বোনদের করেছিল বিধবা। রাজশাহীকে সন্ত্রাসীদের নগরীতে পরিণত করেছিল। সৃষ্টি করেছিল বাংলা ভাই। এখানে ছিল সন্ত্রাসী বাংলা ভাইয়ের অভয় অরণ্য। আমরা উপহার দিই স্বস্তি। মানুষ খেয়ে-পরে বাঁচতে পারে। আর বিএনপি উপহার দেয় লাশ। মানুষ খুন করা তাদের কাজ। আমরা উন্নয়ন করি। তারা ধ্বংস করে। রাস্তা বানাই, তা কেটে ফেলে। মানুষ পুড়িয়ে যারা হত্যা করে, তারা মানুষের কী মঙ্গল করতে পারে?

বক্তব্য তিনি সরকারের সেক্টরভিত্তিক উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরেন।

বিকেল পৌনে ৪টায় তিনি ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানের জনসভাস্থলে পৌঁছান। এরপর প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীর ২৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

প্রধানমন্ত্রী যে ২০টি উন্নয়ন প্রকল্পগুলো উদ্বোধন করেছেন তার মধ্যে রয়েছে- ১৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ে পুঠিয়ায় বারনই নদীতে ড্যাম নির্মাণ, ২ কোটি ৮৭ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ব্যয়ে রাজশাহী (নর্থ) ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন নির্মাণ, ১ কোটি ৫১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা ব্যয়ে নওহাটা ফায়ার স্টেশন নির্মাণ, ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সার্ভে ইনস্টিটিউট নির্মাণ।

এছাড়াও বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজের ৫ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ, শহীদ কামারুজ্জামান সরকারি ডিগ্রি কলেজের ৫ তলা একডেমিক ভবন নির্মাণ, দামকুড়া হাট কলেজের ৪ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ, আড়ানী ডিগ্রি কলেজের ৪ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ, তানোর আব্দুল করিম সরকার ডিগ্রি কলেজের ৪ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ, বাগমারা কলেজের ৪ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ, বিড়ালদহ কলেজের ৪ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ, রাজশাহী মহানগরীর নবনির্মিত ৮টি থানা ও গোদাগাড়ী উপজেলায় প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী যে ৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তার মধ্যে রয়েছে- ১ হাজার ৫শ’ কোটির টাকা ব্যয়ে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ, প্রায় ৯শ’ ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কাশিয়াডাঙ্গা ও মেহেরচণ্ডীতে জিআইএস বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণ, প্রায় ১৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ফ্লাইওভার নির্মাণ, ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারি মহিলা কলেজের ৬তলা ভিত বিশিষ্ট ছাত্রী নিবাস নির্মাণসহ বড়াল নদীর ওপর গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ, গোদাগাড়ী ও চারঘাটে ভূমি অফিস নির্মাণ, মাড়িয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ ও শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজের একাডেমিক ভবন নির্মাণ।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।

জনসভায় বক্তব্য দেন- আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলির সদস্য প্রফেসর ড. আবদুল খালেক ও প্রফেসর ড. সাইদুর রহমান খান, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, মাহবুব উল আলম হানিফ, আবদুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মণি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী সাইফুজ্জামান শেখর, রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন, রাজশাহী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ দারা, রাজশাহী সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য আকতার জাহান, আওয়ামী লীগেরর কেন্দ্রীয় সদস্য নূরুল ইসলাম ঠাণ্ডু, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমুখ।

চলতি মেয়াদে এটি প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহীতে দ্বিতীয় সফর। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে, তিনি আকাশপথে ঢাকা থেকে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার দয়ারামপুরের কাদিরাবাদ সেনানিবাসে পৌঁছান। সেখান থেকে রাজশাহী যান প্রধানমন্ত্রী। নাটোরে সেনাবাহিনীর কুচকাওয়াজে সালাম ও অভিবাদন গ্রহণ করেন তিনি।

খবর২৪ঘণ্টা.কম/রখ

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।