ঢাকাশনিবার , ৯ অক্টোবর ২০২১
                     
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অশান্ত হয়ে উঠেছে  রাজশাহী মহানগরী; আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতির  আশঙ্কা!

admin
অক্টোবর ৯, ২০২১ ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সাম্প্রতিক সময়ে রাজশাহী মহানগরীতে খুন, চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা বেড়েছে। একই সাথে বেড়েছে রাতভর সন্দেহজনক লোকজনের চলাচল ও আড্ডাবাজি । সে তুলনায় পুলিশি টহল ও নজরদারির ঘাটতি রয়েছে। এ ব্যাপারে আরো সতর্ক পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আশঙ্কা রয়েছে মহানগরীর আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির। পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধেও উঠছে বিভিন্ন অভিযোগ।

হুন্ডির টাকা আত্মসাৎকারি, ইয়াবা, হিরোইন এবং  নিরীহ মানুষকে আটকে অর্থ  লুটকারী পুলিশ সদস্যদের দিয়ে শুধু বদনামই হবে। এদের দিয়ে ভালো কিছু আশা করা যায় না ।

 তাই আরো বড় কোন বদনাম এবং বিব্রতকর পরিস্থিতির উদ্ভব হওয়ার আগেই বিপথগামী সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। সর্বোচ্চ পদক পেয়েও অতীতেও অনেকেই সেই পদকের মর্যাদা রক্ষা করতে পারেননি। এখনো অনেকেই পারছেন না। আশির দশকে ডিএমপির ডিবির এসি আকরাম সর্বোচ্চ পদক নিয়েছিলেন অথচ একটি হত্যা মামলায় তাকে জেলে যেতে হয়েছে। তার সব অর্জন  বিফলে গেছে।

ওসি প্রদীপ পদকধারী পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে ভয়াবহ ঘটনা ঘটিয়ে দেশে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ করলেন। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশে এ ধরনের ঘটনা না ঘটলেও অনেক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না ওই সব পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ।

এদের অনিয়মের  বিরুদ্ধে পত্রিকায় খবর প্রকাশ হয়, কিন্তু ঘটনার সুষ্ঠু  তদন্ত পর্যন্ত হয় না।

 চরম বিতর্কে জড়িয়ে পড়া একজন পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) এবং তার  আস্থাভাজন কয়েকজন এ এস আই  এবং এসআই   একাধারে স্বেচ্ছাচারিতা করে যাচ্ছে। যা আরএমপির সুনাম বৃদ্ধির জন্য সহায়ক নয়।

বর্তমান পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক যোগদানের পর  সাংবাদিকদের কাছে যেসব কথা বলেছিলেন  তা শুনে  আমরা খুব আশান্বিত হই। তিনি যোগদানের এক সপ্তাহের মধ্যে  সাইবার ক্রাইম ইউনিট চালু করেন। যা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় অত্যন্ত সহায়ক।  এর পাশাপাশি  নগরীর অধিকাংশ স্থানে তিন শতাধিক  সিসি ক্যামেরা স্থাপন উনার আরো একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। যা অপরাধী শনাক্তকরণে

বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখছে। করোনা রোগীদের জন্য বিনামূল্যে  অক্সিজেন সিলিন্ডার এর ব্যবস্থা করা  এবং অসহায় দরিদ্রদের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রশংসার দাবি রাখে। কিন্তু  নিয়ন্ত্রণহীন মাদকদ্রব্য বিক্রয় ও সেবন,  মুষ্টিমেয়  বিতর্কিত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে গাছাড়া ভাব এবং চুরি ছিনতাই রোধে সমন্বিত উদ্যোগের অভাব  ও কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও  ঢিলেঢালা ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। তার অধীনে   দুইজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, ১২ জন ডেপুটি পুলিশ কমিশনার সহ অন্তত ৫০ জন গেজেটেড

কর্মকর্তা দায়িত্বে নিয়োজিত। এরপরও  ইনাদের চোখে ধুলো দিয়ে  কতিপয় পুলিশ সদস্য  বেআইনি কর্মকাণ্ড করবেন  এবং তাদের বিরুদ্ধে  কোন পদক্ষেপ নেওয়া  হবে না এটা মেনে নেয়া যায়না।   আমি বিশ্বাস করি, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা  আরো আন্তরিক  ও কঠোর হলে  বিরাজমান সংকট এক সপ্তাহের মধ্যে দূর হবে।  আমরা চাই আরএমপি কে নিয়ে গর্ব করতে। চাই বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল  থাকুক। আর চাই বলেই  দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন হোক। রাজশাহী মহানগরীতে শান্তি বিরাজমান  হোক। সাধারণ মানুষ  নির্ভয়ে চলাচল করুক, মাদক ব্যবসায়ীদের  দৌরাত্ম্য কমে যাক। একাধিক পুলিশ সদস্য আবার সিভিল টিমের নামে বিশেষ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত। কোন কোন থানার ওসি তাদের মদদ দিয়ে থাকেন।

এই ধরনের পুলিশ সদস্যরা লোকজনকে ফিল্মি কায়দায় আটকিয়ে মোটরসাইকেলের মাঝখানে বসিয়ে তাদের লক্ষ্য অর্জন করার চেষ্টা করেন।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার, মোঃ আরেফিন জুয়েল এর সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে,অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসুদ এর নের্তৃতে একাধিক জুয়া ও মাদক বিরোধী অভিযান সফল হয়েছে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের অনেকেই ১৫/১৭ বছর ধরে একই স্থানে আছেন চাকরি করছেন। এদের কেউ কেউ অনুমোদন ছাড়াই নিজস্ব এলাকার বাইরে অন্য জেলায় গিয়েও ধান্দাবাজি করছেন। কোন কোন ওসি অধীনস্হদের সাথে দূর্ব্যবহার করেন।

সাহস করে ওসির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েও এখনো বিচার পাননি এমন ঘটনাও  রয়েছে। এতে অধীনস্থ  ক্ষতিগ্রস্ত পুলিশ সদস্যদের মনোবল ভেঙে পড়া এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার প্রতি অনাস্থা সৃষ্টি হতে পারে। অনেকেই অবৈধ উপায়ে বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক হচ্ছেন বাধাহীনভাবে।  আইনের রক্ষকরা যদি আইন অমান্য করে বিশৃংখলা সৃষ্টি করে তাহলে সাধারণ  মানুষ কার কাছে বিচার পাবে? কার কাছে আশ্রয় চাইবে? এত সিসিটিভি  ক্যামেরা   স্থাপন,  সাইবার ক্রাইম ইউনিট গঠনের পরও নগরবাসী এর ফলাফল ভোগ করতে পারছে না। দিনদিন বরং আইনশৃঙ্খলা  পরিস্থিতির  অবনতি  হচ্ছে। রাজশাহী  মহানগরীতে  ৮অক্টোবর, ২০২১ পর্যন্ত  সংঘটিত কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা তুলে ধরা  হলো-

২৭ মার্চ ২০২১  রাজশাহীর পবা উপজেলায় এক মাদক মামলার আসামির গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

১১ এপ্রিল, ২০২১ রাজশাহীতে ছুরিকাঘাতে আনসার বাহিনীর সদস্য মিজানুর রহমান নিহত হয়। মিজান নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার হেতেমখাঁ এলাকার সবজিপাড়া মহল্লার বাসিন্দা ছিলেন। তার বাবার নাম মো. মন্টু মিয়া।

এপ্রিল ১৮, ২০২১ রোজ শুক্রবার রাজশাহী মহানগরীর সিটি হাট এলাকায় ডোবায় ফেলে যাওয়া ড্রামের ভেতর থেকে  উদ্ধার করা হয় ননিকা রানী নামে এক তরুণীর মৃতদেহ। তার বাড়ি ঠাকুরগাঁও সদরের মিলনপুর।

৩০ জুন, ২০২১ রাজশাহী মহানগরীর দাশ পুকুর বৌবাজার এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধ ও দু পক্ষের সংঘর্ষের  এক পর্যায়ে বিএনপি নেতাসহ দুজন খুন হন। নিহতরা হলেন সাবেক বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম শফিক (৪৫)।

নিহত শফিকুল ইসলাম  নগর বিএনপির  সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ছিলেন।  তার বাবার নাম সাজদার রহমান।

নিহত অন্যজন হলেন নগরীর ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব আলীর ছেলে জয়নাল আবেদিন (৪৫)। জয়নাল রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামাল হোসেনের ভাতিজা।

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১  স্বর্ণালঙ্কারের জন্য নগরীর মুন্নুজান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষিকা মায়া রাণী ঘোষকে (৬৮) হত্যা করা হয়।

৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাজশাহীতে মাদকের টাকা না দেওয়ার  জন্য পুত্রের হাতে  রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানার অচিনতলা এলাকার বাসিন্দা আবুল বাশার খুন হন।

২৯ আগষ্ট, ২০২১, রোববার দিবাগত রাতে শাহমখদুম থানার নওদাপাড়া এলাকায় অটোরিক্সার গ্যারেজে হাত, পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে নৈশপ্রহরী আনিসুর রহমান ওরফে নারাকে খুন করা হয়।

৭ অক্টোবর, ২০২১ (বৃহস্পতিবার) বোয়ালিয়া থানাধীন সাগরপাড়া এলাকায় বিদ্যুৎ অফিসের পিছন থেকে এক ব্যক্তির গলা কেটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এমন অনেক অপ্রীতিকর ঘটনায় রাজশাহী  মহানগরী ছেয়ে গেছে। রাতের রাজশাহী  খুনি ও ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হচ্ছে। দিনদিন মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের দাপট বেড়েছে। এমন অবস্থায় বিশেষ তত্ত্বাবধানে টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।

নিছক চুরির জন্য  শান্তির নগরীতে হত্যার মতো ঘটনা  সংঘটিত হচ্ছে। শান্ত নগরী হয়ে উঠেছে অশান্ত। এতে করে জনমনে ভীতি সৃষ্টি হয়েছে এবং  আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে তৈরি হচ্ছে অনাস্থা ও ক্ষোভ। সাধারণ  মানুষের  দাবি সর্ষের মধ্যে লুকিয়ে  থাকা ভুতকে খুঁজে  বের করে আইনের আওতায়  নিয়ে আসা। অর্থাৎ  দুর্নীতিগ্রস্ত,  বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত ও আড়াল থেকে  অপরাধীদের সাহায্য  সহযোগিতাকারী অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। মোট কথা নগরীর

শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে  আনার লক্ষ্যে জিরো টলারেন্স নীতি প্রয়োগ করতে হবে৷ অপরাধী যে বা যারা হোক না কেন দ্রুত শাস্তির আওতায় আনতে হবে। আমরা আমাদের এই প্রাণপ্রিয় নগরীকে অশান্ত দেখতে চায় না। আমরা চাই শান্তির নগরীর শান্তি  ফিরে আসুক, জনগণ দিবারাত্রি নির্বিঘ্নে ও নির্ভয়ে চলাচল করুক। নগরীতে মাদক ব্যবসায়ীদের দাপট দ্রুত দমন করা হোক।

বিএ

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।