ঢাকাবুধবার , ২২ ডিসেম্বর ২০২১
                     
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পুলিশের গনবদলি কি কোন সমাধান?

নজরুল ইসলাম জুলু
ডিসেম্বর ২২, ২০২১ ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সাম্প্রতিক সময়ে আরএমপির বিভিন্ন থানার কতিপয় পুলিশ কর্মকর্তা নারীঘটিত নানান ঘটনায় জড়িয়ে পড়াসহ তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনৈতিক কার্যকলাপ সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগ উঠে।

গত ৯ ডিসেম্বর বোয়ালিয়া থানার মালোপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ইফতেখার আল আমিনের লিঙ্গ কর্তন করেন তার স্ত্রী রূপসী দেওয়ান। অভিযোগ উঠে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ায় স্ত্রী প্রতিশোধ নেন স্বামীর লিঙ্গ কর্তন করে। সূত্রমতে, এ ঘটনাটি রাজশাহী মহানগর পুলিশে তোলপাড় হয়।

কমিশনার ঘটনার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। সম্প্রতি পুলিশ কর্মকর্তার লিঙ্গ কর্তনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে আরএমপির বিভিন্ন থানা পর্যায়ে কর্মরত অনেক পুলিশ কর্মকর্তার অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অনেক খবরও। কারো বিরুদ্ধে পরকীয়ায় জড়ানোর অভিযোগ যেমন রয়েছে তেমনি কয়েকজন নারী পুলিশ সদস্যের ওপর পীড়নের খবরও বেরিয়ে আসে।

গত ২০ ডিসেম্বর সোমবার বদলি করেন পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক একযোগে ২১৮ জন পুলিশ কর্মকর্তার বদলির গণবদলির করা হয়েছে। বদলি কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়। পুলিশের বদলি এটা একটা রুটিন কাজের অংশ। পুলিশের গন বদলি কি কোন সমাধান? আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর ভূমিকা অতি জরুরী ছিল। রাজশাহী মহানগরীর ১২টি থানার মধ্যে বোয়ালিয়া থানার পুলিশ সবচেয়ে বেপরোয়া। তারা এমন কোন অপরাধ নেই যে, করেননি। অভিযোগ রয়েছে মাদক সংশ্লিষ্টতা, ও বাসাবাড়িতে পতিতালয় গড়ে তুলেছেন অনেক কর্মকর্তাই। রাজশাহী শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় রয়েছে বিলাসবহুল বাড়ি। এসব টাকার আয়ের উৎস কি? এরা নানা অপকর্মে সাথে জড়িত।

বর্তমান পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক যোগদানের পর সাংবাদিকদের কাছে যেসব বলেছিলেন তাতে আমরা খুব আশান্বিত হই। যোগদানের এক সপ্তাহের মধ্যে সাইবার ক্রাইম ইউনিট চালু করেন। যা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় অভূতপূর্ব সাফল্য বয়ে এনেছে। এর পাশাপাশি নগরীর অধিকাংশ স্থানে তিন শতাধিক সিসি ক্যামেরা স্থাপন আর একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। অপরাধী শনাক্তকরণে বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

পুলিশ কমিশনারের অধীনে রয়েছেন ২জন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, ১২ জন ডেপুটি পুলিশ কমিশনার সহ অন্তত ৫০ জন গেজেটেড কর্মকর্তা দায়িত্বে নিয়োজিত। এরপরও ইনাদের চোখে ধুলো দিয়ে কতিপয় পুলিশ সদস্য বেআইনি কর্মকাণ্ড করবেন এটা কি করে সম্ভব?

অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের মাধ্যমে পুলিশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া অতি জরুরি ছিল বলে রাজশাহীর বিভিন্ন পেশার মানুষ মনে করেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য এসআই আব্দুল মতিন, এসআই গোলাম মোস্তফা, এসআই শাহীন, এসআই উত্তম, এসআই ইফতেখার আলম, টিএসআই মনির, এএসআই রানা, এএসআই নাজমুল, এএসআই মেহেদী, এএসআই মজনু, এটিএসআই নাসিরসহ আরো অনেকেই রয়েছেন।

বিএ

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।